মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

এলজিএসপি-২ প্রকল্প

এলজিএসপিঃ২ এর পরিচিতি

এলজিএসপিঃ২ এর পরিচিতি

ইউনিয়ন পরিষদ বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। জনসাধারনের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষে সরকার ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হচ্ছে দ্বিতীয় লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি:২)। সিরাজগঞ্জ লোকাল গভর্ন্যান্স ডেভেলপমেন্ট ফান্ড প্রজেক্ট (এসএলজিডিএফপি) এর অভিজ্ঞতার আলোকে স্থানীয় সরকার বিভাগ জুলাই ২০০৬ থেকে জুন ২০১১ পর্যমত্ম লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি) বাসত্মবায়ন করে। এর ধারাবাহিকতায় জুলাই ২০১১ থেকে জুন ২০১৬ পর্যমত্ম ‘দ্বিতীয় লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি:২) বাসত্মবায়ন করছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে সরাসরি থোক বরাদ্দ দেয়া হয়।

 

এলজিএসপি-২ প্রকল্পের উদ্দেশ্য -

  1. Ø স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়নে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা;
  2. Ø  জনগণের দ্বারা উন্নয়ন চাহিদা নিরম্নপণ;
  3. Ø  আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান    শক্তিশালী করা;
  4. Ø  ইউনিয়ন পরিষদকে কার্যকর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা;
  5. Ø  জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা;
  6. Ø  ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি করা;
  7. Ø  দারিদ্র বিমোচন;
  8. Ø  নারীর ক্ষমতায়ন।

 

এলজিএসপি-২ এর মূল বৈশিষ্ট্যঃ

Ø  ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি থোক বরাদ্দ প্রদান;

Ø  প্রকল্পের আওতায় থোক বরাদ্দের ৩০% অর্থ মহিলাদের দ্বারা অগ্রাধিকার প্রাপ্ত স্কিম বাসত্মবায়ন করা;

Ø  প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ;

Ø  নিয়মিত অডিট, মনিটরিং, নতুন ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম বাসত্মবায়নের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে কার্যকর প্

     রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা;

Ø  স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র বিমোচন, সরাসরি জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা

     এবং তৃণমূল পর্যায়ে অংশীদারিত্ব ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা;

Ø  সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা;

Ø  জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দায়বদ্ধতা ও পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা ও ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি

    করা।

 

 

মোট বরাদ্দ- ৩,৯১২ কোটি টাকা  (সমগ্র বাংলাদেশ)

Ø  বাংলাদেশ সরকার-১,৮৩৯ কোটি টাকা;

Ø  বিশ্ব ব্যাংক-  ২,০৭৩ কোটি টাকা।

 

প্রকল্পের সময়কাল- জুলাই-২০১১ হইতে জুন-২০১৬ পর্যমত্ম।

ঠাকুরগাঁও জেলার মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা- ৫৩ টি।

এলজিএসপি-২ এর অঙ্গসমূহ

Øইউনিয়ন পরিষদ অনুদানসমূহ;

                        - মৌলিক থোক বরাদ্দ (BBG)

                        - দক্ষতা ভিত্তিক বরাদ্দ (PBG)

Øতথ্যপ্রবাহ ও জবাবদিহিতা;

Øপ্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন(দক্ষতা);

Øপ্রকল্প ব্যবস্থাপনা।

 

 

স্কিম বাসত্মবায়ননের নিয়মাবলী-

 

ওয়ার্ড কমিটি ও স্কিম সুপারভিশন কমিটির গঠন ও কার্যাবলি

ওয়ার্ড কমিটি (ডবিস্নউসি)এর গঠন

Ø  ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রকাশ্য সভা অনুষ্ঠান করে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে হবে ।

Ø  কমিটির সদস্য সংখ্যা হবে ৭ জন।

Ø  সংশিস্নষ্ট ওয়ার্ড সদস্য বা সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য হবেন কমিটির আহবায়ক।

Ø  ইউপি সদস্য দুই জন।

Ø  স্কুল শিক্ষক একজন।

Ø  স্থানীয় সমাজসেবক দুই জন (একজন নারী ও একজন পুরম্নষ)।

Ø  এনজিও / সুশীল সমাজের প্রতিনিধি একজন।

Ø  মুক্তিযোদ্ধা/মুক্তিযোদ্ধার সমত্মান (পাওয়া না গেলে একজন সাধারণ নাগরিক)।

Ø  ওয়ার্ড কমিটির কমপক্ষে  ২ জন মহিলা সদস্য হবেন।

Ø  কোনো ওয়ার্ড কমিটির সদস্য স্কিম তত্ত্বাবধান কমিটির সদস্য হতে পারবেন না।

Ø  সদস্যের মধ্য থেকে কমিটি কর্তৃক মনোনীত একজন সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

Ø  সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যগণ কমপক্ষে ৩টি ওয়ার্ড কমিটির আহবায়ক হবেন। একজন মহিলা সদস্য, তাঁর নির্বাচনী এলাকায়, পালাক্রমে ৩টি ওয়ার্ড কমিটির আহবায়ক হবেন।

Ø  ওয়ার্ড সদস্যবৃন্দ কর্তৃক আয়োজিত ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রকাশ্য সভা থেকে অন্যান্য সদস্যদের এলাকার জনসাধারণ মনোনীত করবেন।

Ø  কোনো ব্যক্তি একই সাথে একটির বেশি ওয়ার্ড কমিটির আহবায়ক/সভাপতি হতে পারবেন না।

Ø  সদস্যদের মধ্য থেকে কমিটি কর্তৃক মনোনীত একজন সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

 

ডবিস্নউ সি’র দায়িত্ব ও কার্যাবলি

Ø  ওয়ার্ড সভার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা প্রণয়ন কার্যক্রম এবং জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে উক্ত পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করা।

Ø  অনুমোদিত স্কিম বাসত্মবায়ন করা।

Ø  সংশিস্নষ্ট ওয়ার্ডে থোক বরাদ্দের আওতায় ঠিকাদার কর্তৃক বাসত্মবায়নাধীন স্কিমগুলো নিয়মিত তত্ত্বাবধান করা।

Ø  শ্রমঘন কাজের ক্ষেত্রে স্থানীয় শ্রমিক নিয়োগ নিশ্চিত করা।

Ø  সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অথবা দরপত্রের মাধ্যমে ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে মালামাল ক্রয় করা/স্কিম বাসত্মবায়ন করা।

Ø  স্কিমের সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব যাচাইকরণ।

Ø  পরিবেশ এবং সামাজিক বাছাইকরণ (ইএসএমএফ) এবং ইএসএমএফের রিভিউ ফর্ম তৈরি।

Ø  অপর একটি ক্রয় কমিটির দরকার আছে কিনা সে সংক্রান্ত সিদ্ধামত্ম গ্রহণ।

Ø  সরবরাহকারী/যোগানদাতার নিকট থেকে প্রদত্ত ক্রয় আদেশ/কার্যাদেশ অনুযায়ী দ্রব্যসামগ্রী/সেবাসমূহ বুঝে নেওয়া।

Ø  সকল ক্রয়ের বিল, ভাউচার, মাস্টাররোল ইত্যাদি সংরক্ষণ করা এবং ইউনিয়ন পরিষদকে অডিট এবং অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য ঐসকল কাগজপত্র প্রদান করা।

Ø  এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা।

     

স্কিম সুপারভিশন কমিটির (এসএসসি) গঠন ও কার্যাবলি 

Ø  প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি স্কিম তত্ত্বাবধান কমিটি থাকবে।

Ø  ওয়ার্ডের সাধারণ জনগণের মধ্য থেকে গঠিত এ কমিটির সদস্য সংখ্যা হবে ৭ জন।

Ø  ওয়ার্ড সভা মিটিং-এ জনসাধারণ এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই কমিটি গঠিত হবে।

Ø  কমিটির সদস্যবৃন্দ নিজেদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি ও একজন সদস্য-সচিব মনোনীত করবেন।

Ø  উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্কিম তত্ত্বাবধান কাজের জন্য একজন কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মকর্তাকে এই কমিটিতে মনোনয়ন দেবেন।

Ø  ইউনিয়ন পরিষদের কোনো প্রতিনিধি স্কিম তত্ত্বাবধান কমিটির সদস্য হতে পারবেন না এমনকি ওয়ার্ড কমিটির কোনো সদস্য স্কিম সুপারভিশন কমিটির সদস্য হতে পারবেন না। স্কিম তত্ত্বাবধান কমিটির কমপক্ষে দুইজন সদস্য  হবেন নারী।

Ø  স্কিম তত্ত্বাবধান কমিটি গঠিত হবার পরে সংশিস্নষ্ট ওয়ার্ড সদস্য এই কমিটির একটি তালিকা কোনো প্রকাশ্য স্থানে টানিয়ে দেবেন এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশ বোর্ডে এই তালিকাটি টানানোর ব্যবস্থা করবেন।

Ø  মৌলিক থোক বরাদ্দ এবং দক্ষতা ভিত্তিক থোক বরাদ্দ হতে অর্থায়নকৃত ইউনিয়ন পরিষদের সকল স্কিম বাসত্মবায়নকালে স্কিম সুপারভিশন কমিটি এগুলোর বাসত্মবায়ন কার্যক্রম তত্ত্বাবধান, পর্যালোচনা এবং মনিটরিং করবে।

 

 স্কিম বাসত্মবায়ন এবং বিল পরিশোধে ওয়ার্ড  কমিটি ও স্কিম সুপারভিশন কমিটির ভূমিকা

স্কিম বাসত্মবায়ন ও বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ওয়ার্ড কমিটি ও স্কিম সুপারভিশন কমিটি কতিপয় সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে যা সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।

ওয়ার্ড কমিটির ভূমিকাঃ

স্কিম বাসত্মবায়নে ওয়ার্ড কমিটি নিমণরূপ দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করবেঃ

পদ্ধতি১: যদি যথোচিত মনে হয়, ৫০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকার কম ব্যয় সম্পন্ন শ্রমঘন স্কিম ওয়ার্ড কমিটি সরাসরি বাসত্মবায়ন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ওয়ার্ড কমিটির দায়িত্বসমূহ নিমণরূপ:

Ø  ইউনিয়ন পরিষদ তাদের যে অনুমোদিত স্কিম দিয়েছে তার পরিকল্পনা ও বাসত্মবায়ন করা।

Ø  প্রচলিত বাজার দরে স্থানীয় শ্রমিকদের সাথে সরাসরি চুক্তি করা।

Ø  স্কিম অনুমোদনপত্রে দ্রব্যসামগ্রীর যে দাম নির্ধারণ করা আছে, তার উপর ভিত্তি করে সরাসরি ক্রয় বা দরপত্রের মাধ্যমে দ্রব্যসামগ্রী সংগ্রহ করা।

Ø  সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষা যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করা।

Ø  সরাসরি বাসত্মবায়নের প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অগ্রিম গ্রহণ (৫০,০০০ টাকা পর্যমত্ম)।

Ø  সংশিস্নষ্ট ক্ষেত্রে উপযুক্ত ও যোগ্য ব্যক্তির দ্বারা কারিগরি তত্ত্বাবধানের প্রতিবেদন দাখিল করা   (এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী ইত্যাদি)।

Ø  স্কিম ব্যয়ের ভাউচার/অর্থ প্রদানের রশিদ (শ্রমিকদের মাস্টাররোলসহ) নিরীক্ষা ও অন্যান্য কাজের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে দাখিল করা।

 

পদ্ধতি ২:ওয়ার্ড কমিটি ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে ক্রয়ের ক্ষেত্রে নিমেণাক্ত কাজ করবে:

Ø  অপারেশনাল ম্যানুয়ালের ক্রয় সংক্রামত্ম অধ্যায়ে উলেস্নখিত পদ্ধতি অনুসরণে ইউপি কর্তৃক অনুমোদিত স্কিমসমূহের বাসত্মবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন;

Ø  ক্রয় কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত কার্যাদেশ অনুযায়ী সরবরাহকারী/ যোগানদাতার নিকট থেকে দ্রব্যসামগ্রী/ সেবাসমূহ বুঝে নেওয়া;

Ø  সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষা যাচাই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ;

Ø  সেবা প্রদানকারীর কার্যক্রম মনিটরিং করা;

Ø  ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা; এবং

Ø  স্কিমের ব্যয়ের ভাউচার/অর্থ প্রদানের রশিদ (শ্রমিকদের মাস্টাররোলসহ) নিরীক্ষা ও অন্যান্য কাজের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে দাখিল করা;

 

স্কিম সুপারভিশন কমিটির ভূমিকা

স্কিম তত্ত্বাবধান কমিটি নিম্নলিখিত দায়িত্বসমূহ পালন করবেঃ

Ø  অনুমোদিত স্কিম শর্তাবলি অনুযায়ী বাসত্মবায়নকালে কাজের মান, পরিমাণ ও সময়সীমা ঠিক আছে কি না তার নিয়মিত মনিটরিং করা।

Ø  ঠিকাদারের নিয়মিত কাজকর্মে সজাগ দৃষ্টি রাখা (কাজের মান, কাজ সময়মত হচ্ছে কি না, ইত্যাদি);

Ø  পরিবীক্ষণকালে কোনো ত্রম্নটি পাওয়া গেলে সংশোধনের জন্য ওয়ার্ড কমিটিকে পরামর্শ দেওয়া। তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে লিখিতভাবে ইউনিয়ন পরিষদকে জানানো এবং  ইউনিয়ন পরিষদও যদি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে লিখিতভাবে বিজিসিসি-কে জানানো।

Ø  ওয়ার্ড কমিটি /ঠিকাদার/সরবরাহকারী স্কিম ডিজাইন/নকশা ও প্রাক্কলিত ব্যয়সীমার মধ্যে যথাযথ মান বজায় রেখে বাসত্মবায়ন করেছে কি না, স্কিম তত্ত্বাবধান কমিটি হতে এমর্মে ছাড়পত্র দেওয়া। এ ছাড়পত্র পাবার পর ইউনিয়ন পরিষদ চেকের মাধ্যমে সমাপ্ত কাজটির মূল্য পরিশোধ করবে।

Ø  কার্যাদেশ/ক্রয় আদেশ পর্যালোচনা করা।

Ø  স্থানীয় অনুদান সংগ্রহ।

Ø  সামাজিক ও পরিবেশগত অবস্থা পর্যালোচনা করা।

Ø  বাসত্মবায়ন কাজের মান ও এর প্রভাব সম্পর্কে সভার মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে অবহিত করা।

Ø  এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা।

Ø  সর্বোপরি বেসরবকারি ঠিকাদার কর্তৃক স্কিম বাসত্মবায়নকালে স্কিম সুপারভিশন কমিটি সজাগ দৃষ্টি রাখবে। যে সকল স্কিম, স্কিম সুপারভিশন কমিটি তত্ত্বাবধান করছে সেগুলির চুক্তি, চূড়ামত্ম ডিজাইন/নকশা এবং প্রাক্কলিত ব্যয়ের কপিসহ কার্যাদেশের কপি ইউনিয়ন পরিষদ স্কিম সুপারভিশন কমিটিকে সরবরাহ করবে।

 

 ওয়ার্ড সভা ও স্কিম বাছাই, বিবিজি ও পিবিজি ব্যবহারের নিয়মাবলি, ক্রয় পদ্ধতি ও অডিট এবং স্কিমের পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব যাচাই-এ ওয়ার্ড কমিটি ও স্কিম সুপারভিশন কমিটির দায়িত্ব

(ক) ওয়ার্ড সভা ও স্কিম বাছাই

ওয়ার্ড সভাঃ

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ অনুসারে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি ওয়ার্ড সভা গঠন করতে হবে। প্রত্যেক ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় অমত্মর্ভুক্ত ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে ঐ ওয়ার্ডের ওয়ার্ড সভা গঠিত হবে।

(১)     প্রত্যেক ওয়ার্ড সভা এর স্থানীয় সীমার মধ্যে বৎসরে কমপক্ষে ২ (দুই) টি সভা করবে যার একটি হবে বাৎসরিক সভা।

(২)     স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর বিধান সাপেক্ষে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ওয়ার্ড সভার নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা, কার্যাবলি ও অধিকার থাকবে:

Øইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্যাদি সংগ্রহ ও বিন্যসত্মকরণে সহায়তা প্রদান। এ পরিকল্পনা পঞ্চবার্ষিক বা বার্ষিক হতে পারে।

Øওয়ার্ড পর্যায়ে প্রকল্প প্রসত্মাব প্রস্ত্তত এবং বাসত্মবায়নযোগ্য স্কিম ও উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রাধিকার নিরূপণ। এ সকল প্রকল্প বা স্কিম এলাকার ওয়ার্ড সভার মাধ্যমে    প্রসত্মাবিত ও অগ্রাধিকার নিরূপিত হতে হবে।

স্কিম বাছাই পদ্ধতিঃ

Ø  ওয়ার্ড সভায় সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্কিম নির্বাচন ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।

Ø  পরবর্তীতে উলিস্নখিত স্কিমসমূহ ইউনিয়ন পরিষদের সভায় অনুমোদন ও অগ্রাধিকার চূড়ামত্ম করতে হবে।

Ø  বিজিসিসি সভায় গৃহীত সুপারিশ আমলে আনতে হবে।

Ø  বিবিজি ও পিবিজি আওতায় সকল স্কিমের ৩০% মহিলাদের দ্বারা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত হতে হবে।

(খ) বিবিজি ও পিবিজি ব্যবহারের নিয়মাবলি, ক্রয় পদ্ধতি, অডিট

বিবিজি ও পিবিজি ব্যবহারের নিয়বাবলিঃ

মৌলিক থোক বরাদ্দ (BBG) নির্ধারণ ও বিতরণ

Øমৌলিক থোক বরাদ্দের ২৫% অর্থ সকল ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে সমহারে বিতরণ করা হবে।

Øঅবশিষ্ট ৭৫ ভাগ অর্থ, ইউনিয়ন পরিষদের জনসংখ্যার উপর ভিত্তি করে ৯০% এবং আয়তনের উপর ভিত্তি করে ১০% বরাদ্দ নির্ধারণ করা হবে।

Øস্থানীয় সরকার বিভাগ মৌলিক থোক বরাদ্দের (বিবিজি) অর্থ দুই কিসিত্মতে প্রদান করবে যা প্রতি বছরের আগষ্ট-সেপ্টেম্বর এবং ফেব্রম্নয়ারি-মার্চ মাসে সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

Øমৌলিক থোক বরাদ্দ (BBG) ও দক্ষতা ভিত্তিক বরাদ্দ (PBG)  এর অমত্মত ৩০% অর্থ নারীদের দ্বারা অগ্রাধিকার প্রাপ্ত স্কিম বাসত্মবায়নের জন্য ব্যয় করতে হবে।

Øমৌলিক থোক বরাদ্দ (BBG)ও দক্ষতা ভিত্তিক বরাদ্দ (PBG)-এরসর্বোচ্চ ১০% অর্থ সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রামত্ম কাজে প্রধানত স্কিম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা, সুরক্ষা ব্যবস্থাসমূহ, হিসাবরক্ষণ, ইউনিয়ন পর্যায়ের তথ্যাদি কম্পিউটারে এন্ট্রি ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হবে। এছাড়া মহিলা উন্নয়ন ফোরামকে সহায়তা প্রদান, প্রশিক্ষণ, পারস্পরিক শিখন এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট দক্ষতা বৃদ্ধি সহায়তায় ব্যয় করা যাবে। ১০% অর্থ উলিস্নখিত ক্ষেত্রে ব্যয় না হলে স্কিম বাসত্মবায়নে ব্যয় করাযাবে।

 

মৌলিক থোক বরাদ্দ স্কিমে প্রবেশের জন্য প্রাথমিক যোগ্যতা নির্ধারণের মাপকাঠি

যোগ্যতার মাপকাঠি

সূচক

প্রয়োজনীয় দলিলাদি

১. পূর্ববর্তী আর্থিক বছরের আপত্তিহীন অডিট প্রতিবেদন

নিরপেক্ষ অডিট প্রতিষ্ঠান দ্বারা অডিট সম্পন্নকরণ এবং আর্থিক অনিয়মবিহীন অডিট প্রতিবেদন

ইউনিয়ন পরিষদের অডিট প্রতিবেদন

২. পরবর্তী আর্থিক বছরের বার্ষিক পরিকল্পনা ও বাজেট

জনসাধারণের অংশগ্রহণে ওয়ার্ড সভায় পরিকল্পনা প্রণয়ন জনসাধারণের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত বাজেট সভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত বাৎসরিক বাজেট

অংশগ্রহণকারীদের স্বাক্ষরসহ ওয়ার্ড সভার কার্যবিবরণী উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনের স্বাক্ষরিত কার্যবিবরণী/হাজিরা বই এবং বার্ষিক বাজেটের অনুলিপি

৩. সময়মত ষান্মারিক রিপোর্ট প্রদান

৩১ জুলাই এবং ৩১ জানুয়ারীর মধ্যে প্রতিবেদন জমা করণ

প্রতিবেদনের কপি

যে সকল ইউনিয়ন পরিষদ উপরোলেস্নখিত যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হবে তারা মৌলিক থোক বরাদ্দের শুধুমাত্র ২৫% বরাদ্দ পাবে।

 

দক্ষতা ভিত্তিক অনুদান (পিবিজি)

Øমৌলিক থোক বরাদ্দ প্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদসমূহের সার্বিক দক্ষতা উন্নয়নে উৎসাহ প্রদানের জন্য দক্ষতা ভিত্তিক বরাদ্দ প্রদান করা হবে। আর্থিক ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক, যেমন- রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, রাজস্ব আদায়ের হার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, জনগণের অংশগ্রহণ, পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়ন এবং প্রতিবেদন ইত্যাদি বিষয়ে যে সকল ইউনিয়ন পরিষদ দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারবে তাদেরকে এই বরাদ্দ প্রদান করা হবে। প্রকল্পের দ্বিতীয় বছর থেকে দক্ষতা ভিত্তিক বরাদ্দ প্রদান শুরম্ন হবে।

Øদক্ষতার মানের উপর ভিত্তি করে জেলা পর্যায়ে প্রথম সারির ৭৫% ইউনিয়ন পরিষদকে তিনটি ভাগে ভাগ করে এই বরাদ্দ প্রদান করা হবে।

Øদক্ষতার মানের দিক থেকে প্রথম ২৫% ইউনিয়ন পরিষদ তাদের প্রাপ্য মৌলিক থোক বরাদ্দের অতিরিক্ত ৩০% অর্থ পাবে।

Øপরবর্তী ২৫% ইউনিয়ন পরিষদ তাদের প্রাপ্য মৌলিক থোক বরাদ্দের অতিরিক্ত ২০% অর্থ পাবে।

Øতৎপরবর্তী ২৫% ইউনিয়ন পরিষদ তাদের প্রাপ্য মৌলিক থোক বরাদ্দের অতিরিক্ত ১০% অর্থ পাবে।

Øপ্রকল্পের ৩য় বছরে একটি মধ্যবর্তী মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মধ্যবর্তী মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী বছরগুলোতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Ø 

লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্টের আওতায় ক্রয় পদ্ধতিঃ

ক্রয় সংক্রামত্ম কমিটি:

এলজিএসপি:২- এর আওতায় স্থানীয়ভাবে ক্রয় প্রক্রিয়ার পরিচালনার জন্য কয়েকটি সত্মরে কমিটি গঠন করার বিধান রাখা হয়েছে সেগুলো হলো: (১) ওয়ার্ড কমিটি; (২) পরিকল্পনা কমিটি; (৩) দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। এছাড়া স্কিমসমূহ সঠিকভাবে বাসত্মবায়ন তদারকির জন্য স্কিম তত্ত্বাবধান কমিটি রয়েছে।

 

ক্রয় পদ্ধতি:

এলজিএসপি-২ এর আওতায় মোট চার ধরণের ক্রয় পদ্ধতি রয়েছেঃ

Øসরাসরি ক্রয় পদ্ধতিঃ ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকা পর্যমত্ম।

Øকমিউনিটি ক্রয় পদ্ধতি: ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা পর্যমত্ম ( কেবলমাত্র মাটির কাজ)।

Øরিকুয়েস্ট  ফর কোটেশন (আরএফকিউ) - ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টকা পর্যমত্ম।

Øউন্মুক্ত ক্রয় পদ্ধতি - ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা পর্যমত্ম।

 

ক্রয়/বাসত্মবায়নের দায়িত:ব

Øসরাসরি ক্রয় পদ্ধতির দায়িত্ব ওয়ার্ড কমিটির এবং এ ক্ষেত্রে স্কিম সুপারভিশন কমিটি (এসএসসি) এর দায়িত্ব হলো তদারকি করা ও বিল পরিশোধের জন্য সুপারিশ করা।

Øকমিউনিটি ক্রয় পদ্ধতিঃ  ওয়ার্ড কমিটির দায়িত্ব হলো  ক্রয়, শ্রমিকদের অগ্রিম প্রদান ও মাষ্টার রোল সংরক্ষণ এবং এসএসসি এর দায়িত্ব হলো তদারকি ও বিল পরিশোধের জন্য সুপারিশ করা।

Øরিকুয়েস্ট  ফর কোটেশন (আরএফকিউ)ঃ ওয়ার্ড কমিটির দায়িত্ব - ক্রয় প্রক্রিয়া করণ, কার্যাদেশ প্রদান ও স্কিম ডকুমেন্টস হসত্মামত্মর করা এবং এসএসসি এর দায়িত্ব - তদারকি ও বিল পরিশোধের জন্য সুপারিশ করা।

উন্মুক্ত দরপত্র:

Øইউনিয়ন পরিষদঃ  ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিবে এবং কার্যাদেশ প্রদান করবে।

Øদরপত্র মূল্যায়ন কমিটিঃ প্রসত্মাবনা মূল্যায়ন ও ক্রয়ের জন্য সুপারিশ করবে।

Øওয়ার্ড কমিটিঃ ক্রয় কার্যক্রম বাসত্মবায়ন তদারকি করবে।

Øএসএসসিঃ ক্রয় তদারকি ও বিল পরিশোধের জন্য সুপারিশ করবে।

এলজিএসপি-২ এর আওতায় বিল পরিশোধ প্রক্রিয়া:

Øসুষ্ঠুভাবে স্কিম বাসত্মবায়ন সুসম্পন্ন;

এসএসসি এর পক্ষ থেকে সুপারিশ;

Øওয়ার্ড  কমিটির চেয়ারম্যান বরাবরে ক্রস চেকের মাধ্যমে (সরাসরি  ক্রয় ও কমিউনিটি ক্রয়ের ক্ষেত্রে)

Øকন্ট্রাক্টর/সরবরাহকারী বরাবরে ক্রস চেকের মাধ্যমে বিল পরিশোধ (আরএফকিউ/উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির ক্ষেত্রে)।

এলজিএসপির আওতায় ক্রয় সংক্রামত্ম বিষয়ে স্কিমের অর্থ পরিশোধের বিপরীতে আয়কর ও ভ্যাট কর্তণ বিবরণীঃ

 

ইউনিয়ন পরিষদের ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট ও অন্যবিধ করের বিষয়ে সংশিস্নষ্ট জাতীয় আইন প্রযোজ্য হবে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্রয়সীমার মধ্যে বর্তমান প্রযোজ্য আয়কর ও ভ্যাট সংক্রামত্ম কর্তনের হার সরবরাহকারী/ ঠিকাদারকে অর্থ পরিশোধকালে নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক জারীকৃত সর্বশেষ আয়কর ও ভ্যাট সংক্রামত্ম বিধিমালার আলোকে নির্দেশিত হারে আয়কর ও ভ্যাট কর্তন করতে হবে। তবে আলোচনার সুবিধার্থে নিমণরূপভাবে বিল পরিশোধের সময় আয়কর ও ভ্যাট কর্তন করা যেতে পারেঃ

 

আয়কর কর্তন:

Ø২ লক্ষ টাকা পর্যমত্ম বিল বা পাওনা পরিশোধের জন্যঃ ০%

Ø২ লক্ষ ১ টাকা হতে ৫ লক্ষ টাকা পর্যমত্ম বিল বা পাওনা পরিশোধের জন্যঃ ১%

Ø৫ লক্ষ ১ টাকা হতে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যমত্ম বিল বা পাওনা পরিশোধের জন্যঃ ২.৫%

 

ভ্যাট কর্তন:

Øযে কোন নির্মাণ কাজের জন্য দরপত্রে উলেস্নখিত মূল্যের  ৫.৫%

Øমালামাল সরবরাহের জন্য দরপত্রে উলেস্নখিত মূল্যের ৪.০%

 

ক্রয়সম্পর্কিত তথ্যাদি জনসমক্ষে প্রকাশঃ

Øইউনিয়ন পরিষদ স্পষ্ট আকারে ও সহজ ভাষায় নির্দিষ্ট অর্থবছরের সকল প্রকল্পের বিসত্মারিত তথ্যের সারসংক্ষেপ (যেমন স্কিমসমূহের নাম, উদ্দেশ্য, অর্থের পরিমাণ, কী পদ্ধতিতে ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে ইত্যাদি) জনবহুল স্থানে (যেমন সরকারি অফিস-আদালত, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, রেলওয়ে, স্টিমার/লঞ্চঘাট, কমিউনিটি সেন্টার এবং প্রকল্প এলাকা) প্রচার করবে।

Øইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বিলবোর্ডেও একই তথ্য প্রকাশ করতে হবে।

Øনির্দিষ্ট কোনো স্কিম কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বাসত্মবায়িত হলে সে স্থলে ওয়ার্ড কমিটি প্রকল্প এলাকায় বাসত্মবায়িতব্য প্রকল্পের কাজের বিবরণ, প্রাক্কলিত ব্যয়, সমাপ্তির তারিখ, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম/ঠিকানাসহ বিসত্মরিত তথ্যাদি একটি নোটিশবোর্ড/বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রকাশ করবে।

Øএকই সাথে স্কিম বাসত্মবায়ন কমিটির সদস্যদের নাম বোর্ডে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

Øউন্মুক্ত দরপত্র আহবান যেন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং এর কপি ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষণ করতে হবে।

 

ক্রয় প্রক্রিয়ার নিরীক্ষা (অডিট)ঃ

এলজিএসপি-এর আওতায় গৃহীত সকল ক্রয় ও চুক্তি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক নিয়মিতভাবে নিরীক্ষিত হবে।

Øএ নিরীক্ষা কার্যক্রমে নিরীক্ষক বা স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি কর্তৃক নিরীক্ষা ও যাচাই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো বিরূপ মমত্মব্য প্রতিষ্ঠিত হলে থোক বরাদ্দ থেকে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ বঞ্চিত হবে।

Øস্থানীয় সরকার বিভাগ তার প্রতিনিধি বা পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে এলজিএসপি-এর আওতায় থোক বরাদ্দ দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক সম্পাদিত সকল কাজ/চুক্তির কমপক্ষে শতকরা পনের (১৫) ভাগ কাজ/চুক্তির, এবং একই সঙ্গে সম্পাদিত সকল কাজ/চুক্তির মোট মূল্যমানের শতকরা ত্রিশ (৩০) ভাগ পরিমাণ কাজের ক্রয়োত্তর অডিট (পর্যালোচনা) করবে।

Øএই অডিটে (পর্যালোচনায়) পরিলক্ষিত সকল পর্যবেক্ষণ বিশ্বব্যাংকের সাথে আলোচিত হবে এবং ক্রয়প্রক্রিয়ার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গৃহীত হবে। এই ক্রয়োত্তর অডিট (পর্যালোচনা) প্রক্রিয়ায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে কাজ/চুক্তি সম্পাদনের স্থানসমূহ পরিদর্শন ও কাজ থেকে চূড়ামত্ম উদ্দেশ্য অর্জনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি অমত্মর্ভুক্ত থাকবে।

Øপ্রয়োজনে বিশ্বব্যাংক ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক এলজিএসপি-এর থোক বরাদ্দের আওতায় সম্পাদিত চুক্তিসমূহের কমপক্ষে শতকরা বিশ (২০) ভাগের ক্ষেত্রে ক্রয়োত্তর অডিট (পর্যালোচনা) সম্পন্ন করবে। বিশ্বব্যাংকের এই ক্রয়োত্তর অডিট (পর্যালোচনা) প্রক্রিয়ায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে কাজ/চুক্তি সম্পাদনের স্থানসমূহ পরিদর্শন ও কাজ থেকে চূড়ামত্ম উদ্দেশ্য অর্জনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি অমত্মর্ভুক্ত থাকবে।

Øত্রম্নটিপূর্ণ ক্রয়ঃএলজিএসপি’র থোক বরাদ্দের আওতায় গৃহীত স্কিমসমূহের ক্রয়প্রক্রিয়া ও বাসত্মবায়নকালে অনুমোদিত ক্রয় প্রক্রিয়ার ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হলে সরকারী আইনঅনুযায়ী ও বিশ্বব্যাংকের গাইডলাইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

(গ) স্কিমের পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব যাচাই-এ ওয়ার্ড কমিটি ও স্কিম সুপারভিশন কমিটির দায়িত্ব

 

 পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষাঃ

পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষাকার্যক্রম গ্রহণ ও ব্যবহারেরক্ষেত্রে ওয়ার্ড কমিটি ও স্কিম  সুপারভিশন কমিটি সুস্পষ্ট ভূমিকা পালন করবে। পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং মানুষের জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটায় এমন কোন স্কিম ওয়ার্ড কমিটি ও স্কিম সুপারভিশন কমিটি বাসত্মবায়ন করবে না।

 

স্কিম নির্বাচন, প্রণয়ন এবং বাসত্মবায়ন নীতিমালা:

স্কিম নির্বাচন, প্রণয়ন এবং বাসত্মবায়ন প্রক্রিয়ায় নীচে উলেস্নখিত নীতিগুলো প্রযোজ্য হবে:

Øপরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব পর্যালোচনা এবং এসব প্রভাব নিরসনের জন্য গৃহীত ব্যবস্থাদি স্কিমের পর্যালোচনা ও মনিটরিং ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে।

Øস্কিম নির্বাচনের আগে ইউনিয়ন পরিষদ স্কিমের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে স্থানীয় জনসাধারণের পরামর্শ গ্রহণ করবে।

Øব্যক্তিগত ও সরকারী (পাবলিক) ভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ ধরণের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

Øযেসব মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রসত্মহবেন তাদেরকে এ ধরণের গণপরামর্শের মধ্যে অমত্মর্ভুক্ত করতে হবে।

Øপ্রসত্মাবিত সকল স্কিম এর পরিবেশ ও সমাজে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে বিশেস্নষণ থাকতে হবে।

Øপরিবেশ ও জনসাধারণের উপর উলেস্নখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন স্কিমের বাসত্মবায়ন রোধ করার জন্য এ ধরণের যাচাই বাছাই সম্পন্ন করতে হবে।

Øভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে এমন কোন স্কিম ইউনিয়ন পরিষদগুলো নির্বাচন করবে না।

Øনতুন স্কিমের ক্ষেত্রে তারা নিজেদের কিংবা অন্য কোন সরকারী ভূমি ব্যবহারে সচেষ্ট থাকবে।

Øঅতি প্রয়োজনীয় কোন স্কিমের জন্য ভূমি মালিককে উক্ত ভূমি স্বেচ্ছায় দান করার জন্য আহবান জানাতে পারে এবং/ অথবা উপকারভোগী স্থানীয় জনগণ সমবেতভাবে স্বেচ্ছা দানের বিকল্প কোন উপায় অনুসন্ধান করতে পারে। ‘ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে দান’ও এই বিকল্পের অমত্মর্ভুক্ত হতে পারে।

Øওয়ার্ড কমিটি, স্কিম সুপারভিশন কমিটি, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বিশ্বব্যাংক এবং অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সংশিস্নষ্টতায় প্রতিবেদন তৈরী বা জবাবদিহিতার যে ধারাক্রম তার মাধ্যমে স্কিমগুলোর এই পর্যালোচনা ও মনিটরিং সম্পন্ন করা হবে। 

 

এলজিএসপি:২-এর অর্থে যেসব স্কিম গ্রহণ করা যাবে:

যোগাযোগ

Ø    গ্রামের রাসত্মাসমূহ নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ /রক্ষণাবেক্ষণ

Ø    কালভার্ট/ব্রিজ/ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ

Ø    গ্রামের রাসত্মা বা সড়কের পাশে পানি নিষ্কাশন ড্রেইন নির্মাণ

 

পানি সরবরাহ

Ø    পানি সরবরাহের জন্য নলকূপ/পাইপ স্থাপন

Ø    ঝরণার পানি সংগ্রহ/সংরক্ষণাগার নির্মাণ

 

প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা

Ø    সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি

Ø    ভূমি ক্ষয় প্রতিরোধকল্পে অবকাঠামো নির্মাণ

Ø    প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

পয়ঃনিষ্কাশন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

Ø    পয়ঃনিষ্কাশন সম্পর্কে প্রচারণা কার্যক্রম

Ø    বায়োগ্যাস স্থাপনে উৎসাহিতকরণ কর্মসূচি

 

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা

Ø    গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ

Ø    স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিবার পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা

Ø    স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য উপকরণ সরবরাহ

Ø    খ-কালীন স্বাস্থ্য কর্মীর বেতন প্রদান

 

 

শিক্ষা

Ø    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্কার/নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ

Ø    প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র সরবরাহ

Ø    শিক্ষা উপকরণ ক্রয়

Ø    শিক্ষা সচেতনতা বিষয়ক প্রচারণা কর্মসূচি

কৃষি ও বাজার উন্নয়ন

Ø    গবাদি পশুর টিকাদান কেন্দ্র নির্মাণ

Ø    বাজারের টোলঘর/ছাউনি নির্মাণ

Ø    সর্বসাধারণের ব্যবহার্য সেচ সুবিধার ব্যবস্থা করা

Ø    উন্নত চাষাবাদ সম্পর্কিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

 

মানব সম্পদ উন্নয়ন

Ø    নারী উন্নয়ন ও আত্ম-কর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ

Ø    দুস্থদের জন্য আয়বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ

Ø    দরিদ্র যুবক ও যুব মহিলাদের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধি/তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ

Ø    ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রের জন্য সহায়তা প্রদান

Ø    তথ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়ন

 

এলজিএসপি:২ এর অর্থ যেসব ক্ষেত্রে ব্যয় করা যাবে না:

Ø    ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য কিংবা কর্মীদের বেতন, মজুরি  বা অন্য কোনো সুবিধা প্রদান

Ø    ইউনিয়ন পরিষদের অবকাঠামো নির্মাণ, আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি সংক্রামত্ম স্কিম

Ø    নেতিবাচক পরিবেশগত/সামাজিক প্রভাব আছে এরূপ স্কিম

Ø    ক্ষুদ্র ব্যবসার উদ্যোগে ঋণ সরবরাহ

Ø    ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত স্কিমে অর্থায়ন

Øযে সব স্কিম নৃ-জনগোষ্ঠির জীবনযাপন পদ্ধতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে হুমকির মধ্যে ফেলে দেয়।

 

স্কিমের ক্ষতিকর প্রভাব নিরসনের জন্য করণীয় পদক্ষেপ:

Øওয়ার্ড পর্যায়ে প্রসত্মাবিত স্কিমগুলোর সম্ভাব্য পরিবেশগত এবং সামাজিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মতবিনিময় করা।

Øযেসব স্কিমের জন্য ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি ব্যবহারের প্রয়োজন হবে সেসব ক্ষেত্রে জমির সম্ভাব্য দাতা এবং বিক্রেতাকে চিহ্নিত করা।

Øবাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত স্কিমগুলোর ক্ষেত্রে, সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন যে ধরনেরই হোক না কেন, অতিরিক্ত কোনো ভূমির প্রয়োজন হলে, সেক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের সাথে আরও বেশি সুনির্দিষ্ট পরামর্শের প্রয়োজন হবে।

Øওয়ার্ড কমিটিসমূহ সংশিস্নষ্ট ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে ওয়ার্ড পর্যায়ে স্কিমগুলোর পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সম্পর্কিত যাচাই বাছাইয়ের কাজটি করবে।

Øসরকারি ভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার এবং প্রসত্মাবিত স্কিমগুলোতে জমি প্রদান করার সম্ভাবনা যাদের রয়েছে তাদেরকে সাথে নিয়ে এসব ফলাফল যাচাই করতে হবে।

Øযাচাই বাছাইয়ের জন্য ওয়ার্ড কমিটিগুলো স্কিম সুপারভিশন কমিটির কারিগরি সহায়তা চাইতে পারে।

Øএসব স্কিম সুপারভিশন কমিটিতে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি পেশাজীবীদের সদস্যপদ থাকতে হবে।

Øএলইএ’র জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করতে হবে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক পরামর্শক এ ফরমটি পর্যালোচনা করবেন।

0

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)