কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬ এ ০১:৩১ PM

নদ-নদী

কন্টেন্ট: পাতা

ঠাকুরগাঁও জেলার নদ-নদী

টাঙ্গন নদী

টাঙ্গন নদী টংগন বা ট্যাঙ্গন নদী নামেও পরিচিত। ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকাইলের এককালের বিখ্যাত জমিদার টংকনাথের নামানুসারে নদীর এ নামকরণ করা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে নদীটি পঞ্চগড় জেলার পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের ভূখন্ডে প্রবেশ করেছে। নদীটি রুহিয়া, পীরগঞ্জ এবং বোচাগঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার মধ্য দিয়ে পুনরায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে। নওগাঁ জেলার রোহনপুরের কাছে পুনর্ভবা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে টাংগন বাংলাদেশে পুনরায় প্রবেশ করে। শীত মৌসুমে নদীটি শুকিয়ে যায়, তবে বর্ষা মৌসুমে নদীর নাব্যতা থাকে এবং নৌচলাচল সম্ভব হয়। বোদা থেকে ১০ কিমি পশ্চিমে ১৯৮৯ সালে নদীটির উপর পাঁচটি নির্গমন পথবিশিষ্ট একটি বাঁধ নির্মিত হয়; ফলে শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৫,০০০ হেক্টর ভূমিতে সেচ সুবিধা সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে যার মধ্যে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ হেক্টর জমি গম চাষের আওতাভুক্ত। ঠাকুরগাঁও শহর টাংগন নদীর তীরে অবস্থিত।

কুলিক নদী

নদীটি বাংলাদেশের উত্তরাংশের ঠাকুরগাঁও উপজেলা ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বিল এলাকা থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের হরিপুর উপজেলার বাংলাদেশ অংশে পড়েছে। বাংলাদেশের প্রবাহপথে বালিয়াডাঙ্গী, রানীশংকাইল ও হরিপুর উপজেলা রয়েছে।

কুলিক নদী বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। রাজা টংকনাথের প্রাসাদ এই কুলিক নদীর তীরে অবস্থিত।

কুলিক ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ দিয়ে প্রবাহিত একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য বাংলাদেশ অংশে ৬.৩৬ কিমি এবং ভারতের অংশে ৭৫.৬৪ কিমি।

নদীটির ভুটডাঙ্গী এলাকায় প্রস্থ ১০০ মিটার এবং সেখানে এর গভীরতা ৩০ মিটার। আর নদী অববাহিকার আয়তন ১৫০ বর্গকিমি। নদীটিতে সারাবছর পানিপ্রবাহ থাকে। এপ্রিল মাসের দিকে শুকনো মৌসুমে প্রবাহ কমে যায়। আগস্ট মাসের বর্ষা মৌসুমে যখন পানিপ্রবাহ সর্বোচ্চ হয় তখন পানিপ্রবাহের পরিমাণ হয় ১১৫ ঘ্নমিটার/সেকেন্ড। এই নদীতে জোয়ারভাটার প্রভাব নেই।

শুক নদী

শুক নদী বাংলাদেশের উত্তরাংশের ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পাটিয়াডাঙ্গি হাট সংলগ্ন বিল হতে উৎপন্ন হয়ে ঠাকুরগাঁও জেলার টাঙ্গন নদীতে মিলিত হয়েছে। এই নদীটির দৈর্ঘ্য ৩০ কিলোমিটার। প্রস্থ ২০ মিটার এবং গভীরতা ৪.৫ মিটার। নদী অববাহিকার আয়তন ১০০ বর্গকিলোমিটার।

শুক নদী বাঁকের আধিক্যের কারণে খুব ভাঙ্গনপ্রবণ। বুড়িবাঁধ সেচ প্রকল্প রয়েছে এই নদীতে। এই নদীতে ভাঙন রোধের কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার অববাহিকা অঞ্চল অত্যন্ত উর্বর, তাই ফসলও ভালো জন্মে।

নদীর গতিপ্রবাহ সারা বছরই থাকে। এই নদীতে এপ্রিল মাসে কম প্রবাহ থাকে। তখন প্রবাহের পরিমাণ ০.৯০ ঘনমিটার/ সেকেন্ড হয় এবং পানির গভীরতা থাকে ১.২ মিটার। জুলাই ও আগস্টে প্রবাহের পরিমান বৃদ্ধি পেয়ে ৩.২৫ ঘনমিটার/ সেকেন্ড দাঁড়ায়। শুক নদীতে জোয়ার-ভাটা হয় না। এই নদীর তীরে ঠাকুরগাঁও শহর অবস্থিত।

নাগর নদী

নাগর নদী বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। নাগর নদী ভারতে উৎপন্ন হয়ে পঞ্চগড় জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীটি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলা হয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রবেশ করে ঠাকুরগাঁও জেলার পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অবশেষে হরিপুর উপজেলা হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করেছে। নদীটির গতিপথ অধিকাংশ সময়ই ভারত-বাংলাদেশের সীমানা নির্দেশ করেছে। বাংলাদেশ অংশে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২৫ কিমি। নদীটির কিছুটা আকস্মিক বন্যা প্রবণতা রয়েছে, তবে তেমন একটা ক্ষয়-ক্ষতি করে না। শুষ্ক মৌসুমে পানি কম থাকে, তবে কৃষকরা বর্ষা মৌসুমের পানিকে বাঁধ দিয়ে আটকে রেখে সেচের জন্য ব্যবহার করে থাকে। তীরনই নদী এবং নোনা নদী, যমুনা খাল ও জালুই খাল নামে কিছু উল্লেখযোগ্য খালের সঙ্গে নাগর নদীর সংযোগ রয়েছে।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন